শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১১

নারী

নিজের আগুনে দগ্ধ হয় অরণী!

অগ্নিবর্ণ ধাতবের আদল
গনগনে কয়লার স্তূপে নাচে
হাওয়া দিলে কামারের হাপর
অন্তরীক্ষের ক্যানভাসে নক্ষত্রের ছাঁচে।

যদিও সমুদ্রসম্ভূতা
সন্তরণ শেখেনি অবাধ জলে অনায়াস
তীব্র আলিঙ্গনে টেনে নেয়
সমুদ্রের অতল অক্টোপাশ।

অভিজ্ঞা ফিস্ ফিস্ করে বলে-
ভালবাসা মানে একা হয়ে যাওয়া
আগ্নেয়গিরির অতল গহ্বরে হাবুডুবু খাওয়া

গোঁয়ারের মত তবু ভালবেসে ফেলি
পুরুষ কি জানে, আত্মহননের গোপন ইচ্ছে নিয়ে
পৃথিবীর উপকূলে বেড়ে ওঠে নারী?

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

একা

দাওয়ায় পড়ে থাকা সবুজ স্যাঁতস্যাঁতে শিলাখন্ডের মত আমিও খুব একা! একাকে নিয়ে আমি যাই না কোথাও দিনমান একাই বসে থাকি, খাদ্যঘাটতির চোরাবালিতে ডুবতে থাকা ফ্যাকাশে চোখগুলোর দিকে তাকিয়ে, মগজে এম্বুলেন্সের সাইরেন বাজিয়ে-বাজিয়ে খুঁজি তাকে সকলেই যাকে ঈশ্বর বলে মানে, অপেক্ষায় আছে ক্ষুধার শকুন খুবলে খাবে মানব শিশুর হাড্ডিসার দেহ, অবিশ্বাসী চোখে ঠিকানা হীন প্রভুর ঠিকানা খুঁজি, ক্ষুধার্ত শিশুটির পাশে আজ একজন ঈশ্বর খুব প্রয়োজন ছিল!
http://www.facebook.com/photo.php?fbid=254845667893170&set=a.254845154559888.66543.100001032167338&type=1&theater

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১১

প্রাতিভাসিক

তোমার লহমার ঔদার্য আমাকে অনুপ্রাণিত করে
নগ্ন পায়ে হেঁটে পেরিয়ে যেতে জীবনের এই উৎপথ
প্রত্ননগর পাড়ি দিয়ে আমাকেই বার বার তোমার
কাছে পৌঁছাতে হবে লক্ষ লক্ষ যুগের
অন্ধকার পার হয়ে একা?

তোমার মায়া হয়না!

নদী, সমুদ্র পেছনে ফেলে গহীন অরণ্যের
লোমশ অন্ধকারে আমি অবশেষে খুঁজে পাই
তোমার পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ
বাকীটুকু আমার অতিচেনা পথ

একদিন তুমি আমি
জ্যোৎস্না দিয়ে তাম্বুল খেয়ে
হৃদয়ের হ্রদে নাইতে গেছি
এই ঘুলঘুলি পথ বেয়ে,

পৌর্বদেহিক সাঁকো পারাপার করি প্রতিরাতে
পায়ের পাতা, হাঁটু, উরু, কটি, তলপেট বেয়ে
নাভীটাকে আলতো ছুঁয়ে প্রায়ই পৌঁছে যাই
পাঁজরের ঘেরাটোপে কাঁঠালিচাপার সুবাসটাকে ছুঁই,
এখানেইতো ছিল শিল্পের প্রশস্ত পতিত ভুঁই!

আজ কিছু নেই পাঁজরের তলে শুন্য গহ্বর ছাড়া
আমার ঠিক মনে নেই, তুমি মনে করে বলতো মন!
ওখানে হৃদপিণ্ড ছিলো না কি কোনদিন? তুমি ভুলেছ
যদি আমিও ভুলি, কোনদিন ভুলবে না কাপ্তাই হ্রদ,
ভুলবেনা পেডাটিংটিং সেই সব সুখরাঙা দিন
ওরা মানুষের মত স্মৃতিভ্রষ্ট নয়।

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০১১

বৃস্টির আঁচল

দুদিন ধরে এমন নাকি কান্না কাঁদছে আকাশ! ওমা কাঁদবো না? এতো আমার কান্নারই দিন, শ্রাবণ মাস! তাতে কি এমন প্যান প্যানে কান্না আমার একেবারেই না পছন্দ, পথ ঘাট তোমার এমন সিকনী কান্নায় ঘিনঘিনে হয়ে উঠে! চলাফেরা দায়, কাঁদবেই যদি বুক ভাসিয়ে কাঁদ না কেন? তোমার বুকের গুমোটও কেটে যাবে সমাজ সেবাও হবে মানে এই নগরের মানুষ কাজের ফাঁকে ফাঁকে রাজপথেই নৌকা ভ্রমনের সুযোগ পাবে। শুনে ওর সেই যে হেঁচকি উঠলো থামার নামটি নেই। ত্যাক্ত হয়ে বেরিয়ে এলাম রাস্তায় কাহাতক আর ঘরে বসে থাকা যায়!

জরুরি কেনাকাটা বাকী, নাটক সরণীতে যেই পৌঁছলাম ওমা ওর যেন রোখ চাপলো, দীর্ঘদিনের জমানো শোক বুঝি আমার অপেক্ষাতেই ছিলো, বাগে পেয়ে ঝাপিয়ে পড়লো মাথার উপর, কিছু বুঝে উঠবার আগেই আমাকে ভিজিয়ে দিলো, আমি কোনো দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নেবার জন্য ইতি উতি তাকালাম উহু কোথাও দাড়াবার জায়গা নেই, আর ভিজেইতো গেছি কি হবে আর বারান্দায় উঠে, অনেকদিন মানে অনেক বছর তাও না কয়েক যুগই হবে এমন ঝুম বৃষ্টিতে ভিজি না আমি, একেবারে গহীনের, যাকে তুমি বলতে ছেলেমানুষ জেগে উঠলো ছলবল করে, বারান্দায় দাঁড়ানোদের তাকানো দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন বাংলা সিনেমার শুটিং দেখছে, কি করবো ভিজে ভিজেই এগুতে লাগলাম, আগে ভিজতাম তোমার সাথে লুকিয়ে বাড়ীর ছাদে, বাগানে, মাঠে এখন একা, রাজপথে অবশ্য এটাকে এখন পথ না বলে আমাদের ছোট নদী বলাই যায়, হাটু পানি ভেঙে ভেঙে এগুচ্ছি হঠাৎ দেখি লোডশেডিঙের মধ্যে ফুলের দোকান আলো করে বসে আছে দোলন! আহা কতদিন দেখিনি তাকে দোলন আমার প্রিয় দোলন, জীবনের প্রথম লেখা গল্পের প্রথম লাইনটি লিখেছিলাম ওকে নিয়ে তুমিও ছিলে সেই গল্পে, দৈনিক পুর্বকোনে ছাপা হয়েছিলো সেটি, বৃষ্টিতে ভিজে কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল সে। আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিজছি আর আমার এতো কাছে দোলন, আমার আর তর সইলো না জলকন্যার মতো ভেজা শরীরেই ছুটে গেলাম দোকানের ভিতর, দোকানীর হাতে টাকা গুজে দিয়েই সবগুলো দোলনকে বুকে জড়িয়ে ধরে নিয়ে আবার নেমে গেলাম ছোট নদীতে, হাটু জল ভেঙ্গে ভেঙ্গে বুকের মধ্যে অনেক স্মৃতির বুদবুদ নিয়ে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে ভাসিয়ে ঘরে ফিরলাম, কেউ টের পেলো না, এই দোলনচাঁপার ভেজা পাপিড়তেই আচড় কেটে তুমি জল রঙে লিখেছিলে 'ভালোবাসি'

কতদিন পর আমি মনের সুখে কাঁদলাম, শ্রাবণের বৃষ্টি, তুমুল বৃষ্টি দিব্যি গিলে ফেললো আমার চোখের নোনা পানি, কেউ কিচ্ছুটি টের পেলো না, শ্রাবণের বৃষ্টি কেবল জেনে গেল আমারও গহীনে তার মতো এমন কান্না থাকতে পারে, অন্যরা দেখে ভাবলো আমি বুঝি এই ঝুম বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়েছিলাম সাদা ধবধবে নেতানো ফুলগুলো কিনতে।' ওরা কি আমায় পাগল ভাবলো! ভাবুক যা খুশি, তুমিতো জান দোলনচাঁপা আমাদের প্রিয় প্রিয়তম স্মৃতিময় ফুল! বর্ষা আমাদের বুকের ভেতর প্রিয় প্রিয়তম ঋতু। বর্ষণ! প্রিয় ফুল- ঋতু ফেলে রেখে কেন চলে গেলে! মৃত্যু মায়াপুরিতে আছে কি বর্ষা, সেই বর্ষার ঝুম বৃষ্টিতে দোলনচাঁপা কি মেলে রাখে তার প্রেমময় শুভ্র হৃদয়ের আঁচল কারো অনন্ত অপেক্ষায়! আমার মতো কেউ কি ওখানে বৃষ্টির আঁচলে কান্না লুকায়!

সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১১

স্মৃতিপুর

মধ্যরাতের বৃষ্টি কার ঘ্রাণ ছড়িয়ে যায়? কার...? কার...?কার ? ঘ্রাণ...? ঘ্রাণ...? ঘ্রাণ? রিন রিনে একটা মিষ্টি সুর, নহলী শিকারী চিলের মত ছোঁ মেরে হাতে তুলে নেয় মুঠোফোন, হাত বুঝি অবিশ্বাস করছে মস্তিস্ককে, একবার নয় পাঁচবার এসেছে একই বার্তা, এটি একটি প্রত্নভাষা অনুবাদ করতে হলে বৃষ্টি চাই, অঝোর বৃষ্টি, চাই মধ্যরাত, তাইকি অঝোরে ঝরছে মধ্যরাতের আকাশ! নখের আচড় পড়ে বিস্মৃতির জঞ্জালের স্তুপে। খোলা জানালা দিয়ে জলের ঝাপটা এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে পায়ের পাতা, শাড়ীর পাড়, অন্ধকারে চিকচিক করছে জল, বুকের ভেতর ছলকে পড়ে সেই জল ছলাৎ ছল, ছলাৎ ছল, বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হয় কপালে, বিস্মৃতির জঞ্জাল ধুয়ে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে অন্যজন্মের শিলালিপি, বংশীয়াল! কোথায় তুমি? তোমার বাড়ীর ছাদে ফুলের ভারে কি নুয়ে পড়েছে স্নানমগ্ন কদমের ডাল! মধ্যরাতের বৃষ্টি এমন অর্থবহ করে তুলবে আমার কাছে তুমি ছাড়া আর কে?

রবিবার, ১২ জুন, ২০১১

দহন

অনুক্ষণ অকারণ, চৈত্র বৈশাখ অথবা আষাঢ় শ্রাবণ
শীতের শেষে একে একে ঝরে গেলো পুরোনোরা সব,
বসন্তের শুরুতে আবারও নতুন বেশ, নতুন পাতা,
তুমি কি বৃৰ, এভাবে মাথার উপরে বিস্তার করে রাখো
কেন শাখা-প্রশাখা!

গভীর গোপনে খুব ভালোবাসো বলে
পৌষের নরম সকালে আমি কি রোদ পোহাবো না?
বৈকালিক আঁধারে মেলে রাখো কেনো সকরুন চোখ,
চোখ কি তোমার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সবুজ ছাতা?

মায়া মায়া করে কত আর ছায়া দেবে?
একবার বললেই পারো, ভালোবাসি!
শুনবো বলে আমিতো কান পেতে আছি ,

ভাবো, বুঝি বালিকার মন! আসলে এতো দীঘির
জল, জলের উপরে তোমারইতো জল ছবি আঁকা
কেনো এত ভয়?

একবার ডুব দিয়ে দেখো তোমাকেই ভালোবেসে
এখানে আকাশ কি রকম নীল, ছুঁয়ে দেখো সেই নীল,
সকলেই জানে, শুধু জান নাই তুমি, অনিবার্য ফাল্গুনে
তোমারই সবুজ আগুনে পুড়িয়েছে পাখা
এই সোনালী আভার চিল।

২০.০২.২০১১